বায়তুল মোকাররমে সংঘর্ষ : আসামি ৭শ’, ১৩০০ গুলি ছুড়েছে পুলিশ

0
26

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের প্রতিবাদে নামলে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষ হয় হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীদের। শুক্রবার জুমার নামাজের পর বায়তুল মোকাররমে সংঘর্ষের ঘটনায় শনিবার (২৭ মার্চ) অজ্ঞাত ৫০০-৭০০ জনের বিরুদ্ধে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে।

মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ প্রায় ১৩০০ রাউন্ড গুলি ছুড়েছে। তবে মামলায় কারো নাম বা রাজনৈতিক পরিচয় উল্লেখ করেনি পুলিশ। পুলিশের কয়েকজন সদস্য আহতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে মামলায়।

রোববার (২৮ মার্চ) দুপুরে পল্টন থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. শামীম হোসেন মামলার বিষয়ে এসব তথ্য জানান। তিনি নিজেই এ মামলার বাদী।

তিনি বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের প্রতিবাদ ঘিরে শুক্রবার জুমার নামাজের পর সংঘর্ষের ঘটনায় অজ্ঞাত অন্তত ৫০০-৭০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। মামলায় কারো নাম বা রাজনৈতিক পরিচয় উল্লেখ করা হয়নি। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট প্রায় ১৩০০ রাউন্ড গুলি ছোড়ে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের প্রতিবাদ ঘিরে শুক্রবার জুমার নামাজের পর বেলা দেড়টা থেকে সাড়ে তিনটা পর্যন্ত এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় ধর্মভিত্তিক দলগুলোর নেতাকর্মীরা মসজিদের ভেতর আর আওয়ামী লীগ এবং তার সহযোগী সংগঠন যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা মসজিদের বাইরে অবস্থান নেন। তাদের সঙ্গে ছিলেন পুলিশের সদস্যরা। মসজিদের বাইরে থেকে তখন মোদিবিরোধী বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে গুলি ও কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে পুলিশ।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের ৫০ বছর পূর্তিতে (সুবর্ণজয়ন্তী) বিভিন্ন বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকারপ্রধানদের বাংলাদেশে আগমনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদস্বরূপ কতিপয় বিক্ষোভকারী বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেটে ও মসজিদের ভেতরে সরকারবিরোধী উসকানিমূলক ও অবমাননাকর স্লোগান দিতে থাকে। তখন বায়তুল মোকাররমের ভেতরে দুই গ্রুপের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া হয়। একপর্যায়ে এক গ্রুপ মসজিদের উত্তর গেট দিয়ে বের হলে ভেতরে থাকা অন্য গ্রুপ তাদের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পরে মসজিদের ভেতরে থাকা বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন প্রকার উসকানিমূলক ও সরকারবিরোধী স্লোগান দিতে দিতে বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে যান। ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার অনুরোধ করলে তারা পুলিশের প্রতি চরম ক্ষিপ্ত হয়ে মারমুখী ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। তখন পুলিশ গুলি ছোড়ে।

শুক্রবারের ওই ঘটনার পর ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মতিঝিল বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার সৈয়দ নুরুল ইসলাম বলেছিলেন, আন্দোলনকারীরা মসজিদকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছে। যেহেতু সকল মুসলিম ও মুসলমানদের তীর্থস্থান ও পবিত্র জায়গা হচ্ছে মসজিদ, সেহেতু পুলিশ মসজিদের পবিত্রতা রক্ষার্থে মসজিদের ভেতর প্রবেশ করেনি।

তিনি বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশে এসেছেন এটি আমাদের জন্য মর্যাদার। সেই মর্যাদাকে নষ্ট করতে তারা এই সংঘর্ষ করেছে। সত্যিকার অর্থেই তারা রাষ্ট্রের মযার্দা চায় কি না এ বিষয়ে আমার মনে সন্দেহ আছে। বাংলাদেশের মযার্দা তারা চায় না। বাংলাদেশ একটি মর্যাদাশীল রাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠিত হতে চলছে এটা তারা চায় না। তারা চায় তালেবান ধরনের একটি রাষ্ট্র। সকল মুসলিম ও মুসলমানদের তীর্থস্থান ও পবিত্র জায়গা হচ্ছে মসজিদ সেহেতু পুলিশ মসজিদের পবিত্রতা রক্ষার্থে মসজিদের ভেতর প্রবেশ করেনি।

সৈয়দ নুরুল ইসলাম আরও বলেন, আপনারা জানেন বায়তুল মোকাররম থেকে প্রায় প্রতিদিনই বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। তারা নানান ধরনের ব্যাঙ্গাতক আচরণ করে। এখান থেকে জুতা স্যান্ডেল দেখানো হয়, কালো পতাকা, ঝাড়ু দেখানো হয়। যেহেতু আজ ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ মোদি বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্নজয়ন্তী উপলক্ষে আমন্ত্রিত অতিথি, সুতরাং আজকে যেন কোনো বিব্রতকর পরিস্থিত সৃষ্টি না হয় সে কারণে আমাদের নিরাপত্তা বেষ্টনি ছিল।

ডিসি মতিঝিল বলেন, পুলিশ আইনানুগভাবে তাদের প্রতিরোধ করে যাতে জান-মালের ক্ষয়-ক্ষতি না হয় ও আইন-শৃঙ্খলার অবনতি না হয়। সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে এক পর্যায়ে পুলিশ রাবার বুলেট, টিয়ারসেল ছুড়ে তাদের নিবৃত করার চেষ্টা করে।

আপনার মতামত লিখুন :