হেফাজতের নায়েবে আমিরের ‘মান’ ভাঙালেন মামুনুল, পদত্যাগ প্রত্যাহার

0
119

হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমির ও নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি মাওলানা আব্দুল আউয়াল তার পদত্যাগের ঘোষণা থেকে পিছু হটলেন। কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দদের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি তার পদত্যাগের ঘোষণা প্রত্যাহার করে নেন।

বুধবার (৩১ মার্চ) নারায়ণগঞ্জ শহরের ডিআইটি এলাকায় রেলওয়ে কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে হেফাজতের কেন্দ্রীয় কমিটির চার সদস্যের এক প্রতিনিধি দলের বৈঠক শেষে বিকেলে গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে মাওলানা আবদুল আউয়ালের এই সিদ্ধান্তের কথা জানান দলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক।

এসময় প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন- ঢাকা মহানগর শাখার সভাপতি জুনায়েদ আল হাবীব, যুগ্ম-মহাসচিব ফজলুল করীম কাসেমি এবং যুগ্ম-মহাসচিব মুফতি নাসির উদ্দিন মনির, নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর কমিটির নেতৃবৃন্দ।

এর আগে গত ২৮ মার্চ শবে বরাতে নারায়ণগঞ্জ শহরের ডিআইটি রেলওয়ে কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে বয়ানে নানা ক্ষোভের বিষয় তুলে ধরে হেফাজতের পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছিলেন মাওলানা আবদুল আউয়াল। এ সময় আব্দুল আউয়াল দলীয় নেতাকর্মীরা তার নির্দেশনা মানছেন না বলেও অভিযোগ করেন।

পরদিন মঙ্গলবার দুপুরে ফেসবুকে ‘শায়েখ মাওলানা আবদুল আউয়াল সাহেব সমর্থক’ মানের একটি পেজে তার পদত্যাগ সংক্রান্ত এমন বক্তব্যের একটি ভিডিও আপলোড করা হয়। ৪ মিনিট ১৩ সেকেন্ডের এই ভিডিওতে আবদুল আউয়াল হেফাজতে ইসলাম দল থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্তের ঘোষণা জানান। পরে তার বক্তব্যের ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়।

মাওলানা মামুনুল হক জানান, হেফাজতের আমির জুনায়েদ বাবুনগরীর নির্দেশে ৪ সদস্যের একটি টিম তারা মাওলানা আবদুল আউয়ালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে নারায়ণগঞ্জে এসেছেন। আর স¤প্রতি নেতা-কর্মীদের সাথে নায়েবে আমীর আব্দুল আউয়ালের ভুল বোঝাবুঝি ও মান অভিমান সৃষ্টি হয়েছিল। সবার অনুরোধে সবকিছু ভুলে গিয়ে আব্দুল আউয়াল তার পদত্যাগের ঘোষণা প্রত্যাহার করেছেন। পূর্বের পদে বহাল থেকেই তিনি হেফাজতের পরবর্তী কার্যক্রমের সাথে সম্পৃক্ত থাকবেন।

এসময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মামুনুল হক বলেছেন, হেফাজতে ইসলাম কখনো সহিংসতায় বিশ্বাস করে না। গত হরতালে হেফাজতের ইসলামের নেতাকর্মীরা শান্তিপূর্ণ অবস্থান নিয়েছে কোথাও আগ বাড়িয়ে হামলা করে ভাংচুর করেনি। হেফাজত কখনই বিশৃঙ্খলা পছন্দ করেন না। সহিংসতাকে প্রশ্রয় দেয় না। হরতালে হেফাজত ছিল অহিংস। হেফাজত কোন ধরনের হামলা মারধর ভাঙচুর করেনি। এটা বহিরাগত কেউ করেছে। এটা সাবোটাজ হতে পারে। হেফাজতে ইসলাম সাংবাদিকদের মূল্যায়ন করে। সাংবাদিকদের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে।’

সাংবাদিকদের উপর হামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, হেফাজত সাংবাদিকদের উপর হামলা করেনি। সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় আমরা বিশ্বাস করি। সংবাদিকদের সাথে সুসম্পর্ক রেখে আমরা কাজ করছি।

আপনার মতামত লিখুন :