মাওলানা মামুনুল হককে হেনস্থার হাত থেকে উদ্ধার করলো হেফাজত কর্মী-সমর্থকরা

0
66

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে রয়্যাল রিসোর্টে কয়েকঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখা হলেও হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হককে অবশেষে উদ্ধার করলো হেফাজতের কর্মী-সমর্থকরা। স্থানীয়দের অভিযোগ ছিল, একজন নারীকে নিয়ে তিনি ওই রিসোর্টে সময় কাটাতে গিয়েছিলেন। তবে মাওলানা মামুনুল হক বলছেন, দুই বছর আগে এই নারীকে দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে তিনি বিয়ে করেছেন।

আজ শনিবার বিকেলে ওই রিসোর্টে মামুনুল হককে অবরুদ্ধ করা হলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ ঘটনার বেশকিছু ভিডিও ভাইরাল হয়। খবর পেয়ে স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা ও সোনারগাঁও উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মাওলানা মামুনুল হককে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এসময় স্থানীয় যুবলীগ ও ছাত্রলীগকর্মীরা মামুনুল হককে হেনস্থা করে। নানা উল্টাপাল্টা প্রশ্ন করে তারা নাজেহাল করার চেষ্টা করে। এদিকে সন্ধ্যায় এ খবর ছড়িয়ে পড়লে হেফাজতে ইসলামের হাজার হাজার নেতাকর্মী ওই রিসোর্টে ঢুকে মাওলানা মামুনুল হককে উদ্ধার করে একটি মাদরাসায় নিয়ে যায়। এসময় মাওলানা মামুনুল হককে হেনস্থার করার ঘটনায় জড়িতদের বিচার দাবি করেন হেফাজত নেতাকর্মীরা। তারা মামুনুল হককে নিয়ে যাওয়ার সময় ফেসবুকে লাইভেও আসেন।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে মামুনুল হক বলেন, মাস্তান প্রকৃতির লোকেরা এসে আমাকে আমার ওয়াইফসহ নাজেহাল করেছে। আমাকে আক্রমণ করেছে। শনিবার দুপুরে স্ত্রীকে নিয়ে সোনারগাঁয়ে যাই। জাদুঘর ঘুরে দেখে বিশ্রাম নেওয়ার জন্য এখানে (রিসোর্টে) আসি। তিনি বলেন, আমার বক্তব্য পরিষ্কার, আমরা এখানে একটু রিফ্রেশমেন্টের জন্য এসেছিলাম। এখানে অনেক উচ্ছৃঙ্খল লোক এসেছে, লাইভে আপনারা দেখেছেন। আমি তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবো। এ বিষয়ে হেফাজতে ইসলামের অন্যতম নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফি বলেন, তিনি একজন বুজবান ব্যক্তি। কোনো অসৎ উদ্দেশ্যে তিনি সেখানে যেতে পারেন না। তিনি বলেন, যে কেউ তার স্ত্রীকে নিয়ে বেড়াতে যেতেই পারে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ জায়েদুল আলম বলেছেন, ‘হেফাজত নেতা মামুনুল হককে আটক কিংবা গ্রেফতার কোনোটিই করা হয়নি। স্থানীয়রা তাকে ঘিরে ফেলায় পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক আনতে সক্ষম হয়। তবে পুলিশ তাকে নিরাপত্তা দিয়ে রেখেছে।’

আপনার মতামত লিখুন :