শীতলক্ষ্যায় লঞ্চডুবি : নিহতের পরিবার পাবে ২৫ হাজার টাকা

0
59

নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীতে বালুবাহী বাল্কহেডের ধাক্কায় অর্ধশতাধিক যাত্রী নিয়ে ডুবে যাওয়া লঞ্চ দুর্ঘটনায় প্রত্যেক নিহতের পরিবারকে সৎকারের জন্য ২৫ হাজার টাকা করে দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ জায়েদুল আলম।

রোববার (৪ এপ্রিল) দিবাগত রাত সোয়া ২টার দিকে নদীর তীরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ জায়েদুল আলম বলেন, লঞ্চডুবির ঘটনায় সরকারের পক্ষ থেকে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন থেকে সৎকারের জন্য নিহতের প্রত্যেকের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে দেয়া হবে। আর যারা আহত হয়েছেন কিংবা অসুস্থ আছেন তাদের জন্য সরকার চিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে।

তিনি বলেন, যে লঞ্চটি ডুবে গেছে সেটি বিআইডব্লিউটিএ’র উদ্ধারকারী জাহাজ প্রত্যয় শনাক্ত করতে পেরেছে। উদ্ধার অভিযানে ফায়ার সার্ভিস, নৌবাহিনী, নৌপুলিশ, কোস্ট গার্ড, জেলা পুলিশ ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সম্মিলিতভাবে কাজ করছে।

পুলিশ সুপার বলেন, নারায়ণগঞ্জ থেকে একটি যাত্রীবাহী লঞ্চ মুন্সীগঞ্জে যাচ্ছিল। এ সময় একটি কার্গোবাহী জাহাজ পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। লঞ্চটিতে ৪৬ জন যাত্রী ছিল। ইতোমধ্যে ২০ জন সাঁতরে উপরে উঠতে পেরেছেন।

তিনি আরও বলেন, উদ্ধারের জন্য এই গভীর রাতেও বিআইডব্লিউটিএ’র উদ্ধারকারী জাহাজ প্রত্যয় কাজ করছে। আমরা আশা করছি, ঘণ্টা খানেকের মধ্যে প্রত্যয় জাহাজ ও ডুবুরি দলের মাধ্যমে লঞ্চটি উদ্ধার করা সম্ভব হবে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলম আরও বলেন, যে কার্গো জাহাজটি এই দুর্ঘটনা ঘটিয়ে পালিয়েছে, আমরা নৌপুলিশ ও কোস্ট গার্ডকে নির্দেশনা দিয়েছি সেটিকে আটক করার জন্য। আশা করছি, তারা দ্রুতই আটক করতে পারবে।

এদিকে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জিল্লুর রহমান বলেন, ডুবে যাওয়ার সময় প্রচুর বাতাস ও বৈরি আবহাওয়া ছিল। এ সময় পেছন থেকে একটি কার্গো জাহাজের ধাক্কায় লঞ্চটি ডুবে যায়। ডুবে যাওয়া লঞ্চটি শনাক্ত করা গেছে। নদীর পার থেকে লঞ্চটি ৬০ থেকে ৭০ গজের মধ্যে রয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে নদীতে তিনটি ডাইনিং টিম অপারেশন করছে। রাতের বেলায় পানির ভেতর দৃষ্টিতে সীমাবদ্ধতা রয়েছে তবুও ডুবুরি দল অপারেশন চালিয়ে যাচ্ছে। রাতের বেলা বলে একটু সময় সাপেক্ষ ব্যাপার।

এক প্রশ্নের জবাবে ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা বলেন, আমরা আশা করি না যে, খুব বেশি মরদেহ থাকবে। কারণ নদীর তীর থেকে স্পটটি কাছেই। অনেকেই সাঁতরে উপরে উঠেছেন। আমরা আরও বিস্তারিত তথ্য কিছু সময় পরে দিতে পারব।

আপনার মতামত লিখুন :