সিদ্ধিরগঞ্জে আবারও করোনা হাসপাতাল খোলার দাবি

0
104

হোসেন চিশতী সিপলু: বাংলাদেশে গতবছর প্রথম করোনা শনাক্ত হয় নারায়ণগঞ্জে। সংক্রমণের শুরু থেকেই নারায়ণগঞ্জে দাপুটে ছিল করোনাভাইরাস। সব জেলার মধ্যে নারায়ণগঞ্জে করোনা শনাক্তের সংখ্যাও ছিল বেশি। ওই পরিস্থিতিতে কোভিড-১৯ রোগীদের চিকিৎসা দেয় নারায়ণগঞ্জের খানপুরস্থ ৩০০ শয্যার হাসপাতাল ও নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের সাজেদা হাসপাতাল।

কিন্তু স্বাস্থ্য অধিদফতরের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় সিদ্ধিরগঞ্জের সাজেদা হাসপাতালটিতে কোভিড-১৯ রোগীদের চিকিৎসা দেয়া বন্ধ হয়ে যায়। এমনকি লোকসানের কারণে চলতি সালের ১৫ জানুয়ারি অন্য রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেওয়াও বন্ধ করে দেয় হাসপাতালটি।

করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ে সারাদেশে রেকর্ড সংখ্যক মৃত্যু হচ্ছে। সিদ্ধিরগঞ্জে এখন করোনা হাসপাতাল না থাকায় উৎকন্ঠায় রয়েছে এলাকাবাসী। বর্তমান পরিস্থিতিতে আবারও করোনা হাসপাতাল খুলতে সংশ্লিষ্টদের আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

সিদ্ধিরগঞ্জের পাইনাদী এলাকার কামাল হোসেন ২০২০ সালের মে মাসে কোভিড-১৯ পজেটিভ হয়েছিলেন। সাজেদা হাসপাতালে ২৩ দিন চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেন।

তিনি জানান, দেশব্যাপী করোনা শনাক্তের সংখ্যা বাড়ছে। সংক্রমণের শুরুতে অনেক রোগী সাজেদা হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এখন আমাদের এলাকায় কেউ কোভিড-১৯ পজিটিভ হলে কোন হাসপাতালে চিকিৎসা নিবেন তা বুঝতে পারছি না।

তাছাড়া বেশিরভাগ হাসপাতালে বেড খালি নেই শুনছি। এজন্য আমাদের সিদ্ধিরগঞ্জে করোনা হাসপাতাল অত্যান্ত প্রয়োজন।

সিদ্ধিরগঞ্জের হীরাঝিল এলাকার সুরুভি আক্তার গত বছর জুন মাসে কোভিড -১৯ পজেটিভ হয়ে ১৭ দিন সাজেদা হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হন। এ হাসপাতাল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শঙ্কা প্রকাশ করে তিনি জানান, দিন-দিন করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ হচ্ছে। এ সময়ে সিদ্ধিরগঞ্জে করোনা হাসপাতাল চালু থাকা দরকার ছিল। আমি সংশ্লিষ্টদের অনেুরোধ করবো দ্রুত যাতে করোনা হাসপাতাল খোলা হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিদ্ধিরগঞ্জের এক চিকিৎসক জানায়, সংক্রমণের প্রথম ঢেউয়ে নারায়ণগঞ্জের অধিকাংশ করোনা রোগী সাজেদা হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। আবারও সংক্রমণ বাড়ছে। এ মূহুর্তে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে আবারও করোনা হাসপাতাল খোলা প্রয়োজন।

এদিকে গত ৮ এপ্রিল দুপুরে নিজের ফেসবুক আইডিতে মেয়র ও সংসদ সদস্যদের উদ্দেশ্য করে সাজেদা হাসপাতাল খুুলে দেয়ার বিষয়ে একটি স্ট্যাটাস দেন নাসিক কাউন্সিলর (৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড) আয়েশা আক্তার দিনা।

ওই স্ট্যাটাসে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান ও নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান এবং নাসিক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভীকে বন্ধ হওয়া সিদ্ধিরগঞ্জের সাজেদা হাসপাতালে করোনা চিকিৎসা শুরুর আহ্বান জানান কাউন্সিলর দিনা।

ফেইসুকে স্ট্যাটাস দেয়ার ব্যাপারে নাসিক কাউন্সিলর আয়েশা আক্তার দিনা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার স্বামী করোনায় আক্রান্ত। এরমধ্যে আমাকে ছোটবোনসহ এলাকার করোনাক্রান্ত অন্য রোগীদের স্বজনরা আইসিওর ব্যবস্থা করার অনুরোধ করে একের পর এক ফোন করছে। আমি চেষ্টা করছি, কিন্তু আইসিওর ব্যবস্থা করতে পারছি না। সেই থেকেই করোনার হাসপাতালের দাবি করে এই স্ট্যাটাস দিয়েছি।

করোনা হাসপাতাল খোলার বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন ডাক্তার ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, এ মূহুর্তে সিদ্ধিরগঞ্জে করোনা চিকিৎসার জন্য কোন হাসপাতাল খোলার সম্ভাবনা নেই। বর্তমান পরিস্থিতিতে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে তিন বলেন, সবাই নিজ নিজ জায়গা থেকে সচেতন হলে করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সহজ হবে। এজন্য সবার স্বাস্থ্যবিধি মানা জরুরি।

প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের ২১ মার্চ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের সাজেদা হাসপাতালের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। গত ৩১ ডিসেম্বর চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়। চুক্তিকালীন সময়ে এ হাসপাতালে দেশের ৩৯টি জেলার ৯৮৩ জন করোনা রোগী ভর্তি হয়েছিল। তাদের মধ্যে ১৩১ জন রোগী নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) সেবা নিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন :