লকডাউনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট

0
130

জরুরি অবস্থা জারি করা ছাড়া সরকার ঘোষিত লকডাউন দেয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইউনুছ আলী আকন্দ জনস্বার্থে রোববার (২৫ এপ্রিল) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই রিট দায়ের করেন।

রিটে মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটিকে বিবাদী করা হয়েছে। আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ রিটের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সোমবার (২৬ এপ্রিল) হাইকোর্টের বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সরদার মো. রাশেদ জাহাঙ্গীরের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল বেঞ্চে রিট আবেদনটির ওপর শুনানি হতে পারে।

রিটের বিষয়ে অ্যাডভোকেট ইউনুছ আলী আকন্দ বলেন, ‘জরুরি অবস্থা জারি করা ছাড়া জনগণের চলাফেরার অধিকার, আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার সরকার স্থগিত রাখতে পারে না। এটা সংবিধান পরিপন্থী। এ কারণে রিট দায়ের করেছি।’ রিটে চলমান লকডাউন স্থগিত চাওয়াসহ ফের লকডাউন না দেয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সরকার প্রথমে ৫ এপ্রিল থেকে সাত দিনের জন্য গণপরিবহন চলাচলসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করে। পরে তা আরও দুই দিন বাড়ানো হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় ১৪ থেকে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত আরও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে ‘সর্বাত্মক লকডাউন’ শুরু হয়। নির্ধারিত এই সময় শেষ হওয়ার আগে ২০ এপ্রিল তা আরও এক সপ্তাহ বাড়ানো হয়। এ অবস্থায় সুপ্রিম কোর্টের ওই আইনজীবী ‘সর্বাত্মক লকডাউন’ স্থগিত চেয়ে রোববার ওই রিট করেন।

রিটের আর্জিতে চলাচলে বিধিনিষেধ সংক্রান্ত ৫ এপ্রিল থেকে দেয়া ‘লকডাউন’ বাড়িয়ে ২০ এপ্রিলের প্রজ্ঞাপন কেন আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভুত ঘোষণা করা হবে না- এ বিষয়ে রুল চাওয়া হয়েছে। রুল হলে তা বিচারাধীন থাকা অবস্থায় সারাদেশে লকডাউনের কার্যকারিতা স্থগিত চাওয়া হয়েছে।

ইউনুছ আলী আকন্দ বলেন, জরুরি অবস্থা ঘোষণা ছাড়া জনগণের আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার, চলাচল ও পেশার অধিকারের মতো মৌলিক অধিকার খর্ব করা যায় না। ঘোষিত লকডাউন এবং এর মেয়াদ বাড়ানো আইনের দৃষ্টিতে সমতা (সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদ) ও চলাফেরার স্বাধীনতাসহ (সংবিধানের ৩৬ অনুচ্ছেদ) সংবিধানের কয়েকটি অনুচ্ছেদের পরিপন্থী- এসব যুক্তিতে মূলত রিটটি করা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন :