রূপগঞ্জে লকডাউনেও জমজমাট ঈদবাজার

0
50

‘দেইখ্যা লন, বাইচ্যা লন; যা লন ২০০।’ আবার কেউ বলছেন ‘যা লন ৩০০’। এমন হাঁকডাকে সরগরম রূপগঞ্জের কাপড়ের হাটবাজারের সামনের ফুটপাত। আবার মার্কেটের ভেতরও ভিন্ন চিত্র। পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে করোনা মহামারি পরিস্থিতিতেও জমে ওঠেছে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের বিভিন্ন কাপড়ের মার্কেট।

সরেজমিন মার্কেটগুলো ঘুরে দেখা যায়, সরকারিভাবে তৃতীয় ধাপে ৫ মে পর্যন্ত লকডাউন ঘোষণা করলেও স্বাস্থ্যবিধির বালাই নেই হাটবাজারে। মার্কেটের বেশিরভাগ ক্রেতা-বিক্রেতার মুখে দেখা মেলেনি মাস্কের ব্যবহার। এমনকি মার্কেটের প্রবেশ পথে নেই হাত ধোয়া কিংবা জীবাণুনাশক স্প্রের ব্যবস্থা। সব জায়গায় উপচেপড়া ভিড়।

দেশের বৃহত্তম পাইকারি মার্কেট গাউছিয়া মার্কেটের ভবনের ওপরে ভুলতা পুলিশ ফাঁড়ির পক্ষ থেকে করোনায় স্বাস্থ্যবিধি মানার জন্য মাইকে ঘোষণা দেয়া হচ্ছে। তবে দেখা গেল ওই নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে হাজারো মানুষ স্বাভাবিক সময়ের মতোই কেনাকাটায় ব্যস্ত। ব্যবসায়ীরা তাদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে চড়া দামে কাপড় বিক্রি করছেন। এতে ক্রেতারা কম দামের কাপড় বেশি দামে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। একই চিত্র তারাবো পৌরসভার রূপসী, বরপা, মুড়াপাড়া বাজার, কাঞ্চন পৌর বাজার, ভোলাবো আতলাপুর বাজার, ইছাপুরা ও বেলদী বাজারের। এসব কাপড়ের দোকানে নিম্নমানের কাপড়কে ইন্ডিয়ান, চায়না, পাকিস্তানি বলে বেশি দাম হাঁকা হচ্ছে। আবার গাউছিয়া মার্কেটের বেশিরভাগ দোকানেই ‘একদর’ স্টিকার লাগিয়ে আকাশছোঁয়া মূল্য লিখে ঝুলে রাখা হয়েছে।

গোয়ালপাড়া এলাকার গৃহবধূ তানজুমা আইজি ইকরা বলেন, ‘গাউছিয়া মার্কেট এলাকার ‘ছোঁয়া ফ্যাশন’ নামের একটি দোকান থেকে কাপড় কিনতে যাই। সেখানে বিক্রেতারা শিশুদের একসেট কাপড়ের গায়ে পাঁচ হাজার লিখে রাখেন। কিন্তু ওই কাপড় দামদর করে শেষে দুই হাজার টাকায় কিনি।’

jagonews24

আরেক ক্রেতা আধুরিয়া এলাকার বাসিন্দা আমির হোসাইন জাগো নিউজকে বলেন, ‘লকডাউন পরিস্থিতিতে কখন পুরো মার্কেট বন্ধ হয়ে যায়, তা বলা যায় না। তাই সবাইকে নিয়ে মার্কেট করতে এসেছি। কিন্তু কোনো প্রকার স্বাস্থ্যবিধি মানার চিত্র দেখলাম না। ব্যবসায়ীরাও কোনো ব্যবস্থা রাখেনি।’

তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, করোনা পরিস্থিতিতে সবাই হতাশায় আছেন। ঈদের জন্য তারা যেসব কাপড় কিনেছেন, তা বিক্রি করতে পারবেন কি-না, তা জানা নেই। কারণ যে কোনো সময় মার্কেট বন্ধ হতে পারে । এসব নানা কারণে তারা একটু বেশি দাম রাখা হচ্ছে। তাছাড়া, ভারত থেকে পণ্য কিনে আনতে খরচ বেশি। তাই বাজারে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে।

বেশি ভিড় দেখা যায় জুতা, স্যান্ডেল, পাঞ্জাবি ও অলঙ্কারের দোকানগুলোতে। কেউ বন্ধুদের সঙ্গে, কেউবা পরিবার-পরিজন নিয়ে হাজির হচ্ছেন এসব মার্কেটে। ঈদের দিনে পছন্দের পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে চাই প্রসাধনীও। তাই অলঙ্কার আর কসমেটিকসের দোকানেও ছিল সব বয়সী নারী-পুরুষের ভিড়। ঈদের পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে গয়না কিনতে দেখা গেছে অনেককেই।

ভুলতা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর নাজিমউদ্দিন মজুমদার বলেন, ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়কে স্বাস্থ্যবিধি মানার কঠোর নির্দেশনা ও শর্ত জুড়ে দেয়া হয়েছে। আমাদের পুলিশ সদস্যরাও তা খেয়াল করছেন। তবে ঈদকে সামনে রেখে গরিব ক্রেতা-বিক্রেতার কথা ভেবে ফুটপাতেও সুযোগ করা হয়েছে।

গাউছিয়া মার্কেটের কাপড় ব্যবসায়ী পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আউয়াল বলেন, মার্কেটগুলো সবসময়ের জন্য খোলা রাখলে এমন ভিড় হতো না। তবে বেশি দামে বিক্রির বিষয়টি বিক্রেতা ও ক্রেতাদের সম্পর্ক ও বোঝাপড়ার বিষয়। এতে উভয় পক্ষ জেনে বুঝেই ক্রয়-বিক্রয় করছেন।

আপনার মতামত লিখুন :