স্ত্রীর চেয়ে ৩৩ বছর ছোট কোব্বাত!

0
40

ভিক্ষুক কোব্বাত হোসেনের বয়স প্রায় ৯০ বছর। কিন্তু জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী তার ৪৯ বছর চলছে। সে হিসেবে বড় ছেলের চেয়ে এক বছরে বড় আর স্ত্রীর চেয়ে ৩৩ বছরের ছোট তিনি। জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদানকারী কর্তৃপক্ষের হেয়ালিপনার কারণে এমনটাই ঘটেছে। ফলে বয়স্ক ভাতা থেকে বঞ্চিত কোব্বাত।

রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার মিঠিপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের নন্দরাম ফতেপুর গ্রামের বাসিন্দা কোব্বাত। জন্ম থেকেই তিনি দরিদ্রতার সঙ্গে যুদ্ধ করে চলছেন। তার পাঁচ ছেলে ও তিন মেয়ে। বড় ছেলে রুহুল আমিন ১৯৮৮ সালের বন্যার সময় পনেরো বছর বয়সে নিখোঁজ হন। আজও তার সন্ধান মেলেনি। দ্বিতীয় ছেলে সোহেল মিয়া ২০০৬ সালে ৩৪ বছর বয়সে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। বাকি সন্তানেরা সবাই দারিদ্রসীমার নিচে জীবন-যাপন করছেন। কোব্বাত হোসেনের স্ত্রী মল্লিকা বেগম নিয়মিত বয়স্কভাতা পাচ্ছেন। তবে জাতীয় পরিচয় পত্রে বয়স কম থাকায় বঞ্চিত কোব্বাত।

কোব্বাত হোসেন জানান, যখন তার বয়স ১৩-১৪ বছর, তখন একবার আকাল (অভাব) হয়েছিল। ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষ। সে হিসেবে তার বয়স ৯০-৯১ বছর। তবে জাতীয় পরিচয়পত্রে জন্ম সাল রয়েছে ১৯৭২। সে হিসেবে তার বয়স চলছে ৪৯ বছর। বিধি অনুযায়ী পুরুষরা ৬৫ বছর এবং নারীরা ৬৩ বছর বয়স হলে বয়স্কভাতার আওতায় আসবেন। সে অনুযায়ী কোব্বাতকে আরও ১৬ বছর অপেক্ষা করতে হবে বয়স্ক ভাতা পাওয়ার জন্য।

কোব্বাত হোসেন দুঃখ করে বললেন, ‘বেঁচে থাকতে হয়তো বয়স্ক ভাতা পাব না। ভিক্ষা করেই জীবনটা শেষ করে দিতে হবে।’

এ বিষয়ে মিঠিপুর ইউপির চেয়ারম্যান এসএম ফারুক আহমেদ বলেন, ‘কোব্বাত হোসেনের জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে উপজেলা সমাজসেবা অফিসারের শরণাপন্ন হয়েছি। কোনোভাবে তার জন্য কিছু করা যায় কিনা সে চেষ্টা চলছে। একান্ত মানবিক কারণে হলেও তার জন্য কিছু একটা করা অতি প্রয়োজন।’ ৎ

তিনি আরও বলেন, ‘বয়সের ভারে মানুষটি এখন ভালোভাবে চলাফেরা করতেও পারেন না। অনেক কষ্টের জীবনে বয়স্ক ভাতার ৫০০ টাকায় হয়তো তার জীবন চলবে না। কিন্তু আশায় আশায় বুক বেঁধে বসে আছেন তিনি ভাতা পাবেন।’

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আব্দুল কুদ্দুস মিয়া বলেন, ‘জাতীয় পরিচয়পত্র দিতে অনেক ভুলত্রুটি হয়েছে। এখন সেগুলো সংশোধন হচ্ছে। তবে সময় লাগে।’

আপনার মতামত লিখুন :