শেষ মুহূর্তের কেনাকাটায় জমজমাট ঈদ বাজার

0
113

শেষ মুহূর্তে ঈদের কেনাকাটা করতে মার্কেটে মার্কেটে ছুটছেন রাজধানীর বাসিন্দারা। এতে ক্রেতাদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে পোশাকের দোকানগুলো। ক্রেতা টানতে কোনো কোনো ব্যবসায়ী বিশেষ ছাড়ো দিচ্ছেন।

ব্যবসায়ীরা বলেছেন, এবার শুরুর দিকে খুব একটা ক্রেতা ছিল না। তবে ঈদের সময় ঘনিয়ে আসায় ক্রেতাদের ভিড় বেড়েছে। বিশেষ করে গণপরিবহন চলাচল শুরু করার পর মার্কেটে ক্রেতাদের উপস্থিতি বেড়ে গেছে।

jagonews24

তারা বলছেন, রোজা ২৯টা হলে বৃহস্পতিবার (১৩ মে) ঈদ হবে। আর ৩০ রোজা হলে ঈদ হবে শুক্রবার (১৪ মে)। সে হিসেবে ঈদের আগে আর সময় আছে দুই বা তিন দিন। এ কারণে শেষ মুহূর্তে ক্রেতারা পছন্দের পোশাক কিনতে ছুটে আসছেন।

তারা আরও বলছেন, শেষ দিকে ক্রেতাদের আনাগোনা বাড়লেও সার্বিকভাবে এবারের বিক্রি পরিস্থিতি ভালো না। তবে প্রথমদিকে লোকসানের যে শঙ্কা ছিল, সেই আশঙ্কা কেটেছে। বেশিরভাগ ব্যবসায়ী খরচ উঠিয়ে কিছুটা লাভের আশা করছেন। রাজধানী সুপার মার্কেটের ব্যবসায়ী শরিফুল আলম বলেন, গত কয়েকদিন ধরে ক্রেতা ভালোই আসছে। আশাকরি চাঁদ রাত পর্যন্ত ক্রেতাদের এমন সমাগম থাকবে।

তিনি বলেন, শেষ দিকে কিছুটা ক্রেতা আসলেও স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় ক্রেতাদের উপস্থিতি বেশ কম। তবে এবার প্রথমদিকে ক্রেতাদের যেমন উপস্থিত ছিল, তাতে ধরে নিয়েছিলাম এবারও লোকসান হবে। গত কয়েকদিনের বিক্রিতে লোকসানের শঙ্কা কেটেছে। কিন্তু লাভ খুব বেশি হবে না। কোনো রকমে খরচটা উঠে আসবে।

তালতলা সিটি করপোরেশন মার্কেটের ব্যবসায়ী হৃদয় বলেন, গত বছর ঈদের বিক্রি খুব খারাপ ছিল। প্রায় সব ব্যবসায়ী লোকসানে ছিল। এবার ভালো বিক্রি হবে এই আশায় সবাই বাড়তি প্রস্তুতি নিয়েছিল। কিন্তু এক সময় মার্কেট খোলা নিয়েই শঙ্কা তৈরি হয়। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী আমাদের কথা চিন্তা করে মার্কেট খুলে দিয়েছেন।

jagonews24

তিনি বলেন, শঙ্কা কেটে মার্কেট খুললেও, প্রথমদিকে ক্রেতা না আসায় বিক্রি নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়। প্রথম ১০ দিন বিক্রি একেবারেই ছিল না। ফলে এবার লোকসান হবে এই আশঙ্কা করছিলাম। কয়েকদিন ধরে কিছু ক্রেতা আসছে। চাঁদ রাত পর্যন্ত এই ধারা অব্যাহত থাকলে হয়তো খরচের টাকা উঠে আসতে পারে।

বেইলি রোডের ব্যবসায়ী সিফাত বলেন, এক সপ্তাহ ধরে কিছু বিক্রি হচ্ছে। তবে সার্বিকভাবে বিক্রি ভালো না। ঈদের আর খুব একটা বাকি নেই, এ কারণে যাদের কেনা একান্ত প্রয়োজন তারা এখন মার্কেটে আসছেন। এরপরে এবারও আমাদের লোকসান গুনতে হবে। গত বছরও লোকসান হয়েছিল।

মৌচাক মার্কেটে ছাড় দিয়ে থ্রি-পিস বিক্রি করা মো. আলম বলেন, আমাদের বিক্রি খুব একটা ভালো না। বিক্রি ভালো না হওয়ায় খরচের টাকা তুলতে ছাড় দিয়ে বিক্রি করছি। এতে কিছু ক্রেতা আসছে। আশাকরি, চাঁদ রাত পর্যন্ত ক্রেতা থাকবে। তারপরও সব খরচ হিসাব করলে এবার লাভ হবে বলে মনে হচ্ছে না।

jagonews24

মার্কেটটি থেকে থ্রিপিস কেনা আলেয়া বলেন, গত বছর কোনো কিছু কিনিনি। বেতনের টাকা পাওয়ার পর মার্কেটে আসছি। আরও এক সপ্তাহ আগে আসতে চেয়েছিলাম, কিন্তু ভিড় বেশি থাকায় আসিনি। কিন্তু এখন তো আর হাতে সময় নেই। তাই চলে আসলাম।

রাজধানী মার্কেট থেকে পরিবারের জন্য ঈদ মার্কেট করা আমেনা বেগম বলেন, আমাদের এক ছেলে এক মেয়ে। গত বছর কারও জন্য কিছু কেনা হয়নি। এবার কিছু না কিনলে হয় না তো, ওদেরও শখ আহ্লাদ আছে। করোনার ভয়ে ঘরের মধ্যে আর কতদিন থাকবো?’

আপনার মতামত লিখুন :