ভোগান্তি যাত্রীদের, পোয়াবারো মৌসুমি চালকদের

0
123

দরজায় কড়া নাড়ছে ঈদ। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে এবার সরকারি নির্দেশ বন্ধ রাখা হয়েছে দূরপাল্লার বাস, চলছে না ট্রেন কিংবা লঞ্চও। তবে থেমে নেই রাজধানীবাসীর ঈদ যাত্রা। শত প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করে প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে গ্রামে যাচ্ছে মানুষ।

এদিকে, করোনাভীতির মধ্যে এই ঈদ যাত্রা হ-য-ব-র-ল। হেঁটে, রিকশা, সিএনজি যে যেভাবে পারছেন গ্রামে ছুটছেন নগরবাসী। পথে পথে ভোগান্তি আর বাড়তি ভাড়া গুনে তারা ঢাকা ছাড়ছেন। গত কয়েকদিনের মতো মঙ্গলবারও (১১ মে) রাস্তায় ছিল ঘরমুখো মানুষের স্রোত।

jagonews24

জনস্রোত ঠেকাতে সড়কে দায়িত্ব পালন করছেন ম্যাজিস্ট্রেট, বিজিবি ও পুলিশ সদস্যরা। তবে জনস্রোত ঠেকানো যায়নি।

রাস্তায় কারও কাঁধে ব্যাগ দেখলেই ছুটে আসছেন দূরপাল্লার গাড়ির শ্রমিকরা। এছাড়া ভাড়ায় চালিত প্রাইভেট কার আর মোটরসাইকেল চালকরাও আছেন যাত্রীর আশায়। ছোট ছোট যানবাহনগুলোও যাত্রী নিয়ে পাড়ি দিচ্ছে এক জেলা থেকে আরেক জেলায়।

এদিন গাবতলী ট্রাকস্ট্যান্ডে গিয়ে দেখা যায়, পাটুরিয়া এবং শিমুলিয়া ঘাটে যাত্রী প্রতি এক থেকে দেড় হাজার টাকা ভাড়া হাঁকছেন মোটরসাইকেল চালকরা। আর গাড়িচালকরা চাইছেন ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা বেশি। মূলত ইচ্ছামাফিক ভাড়া হাঁকছেন চালকরা।

jagonews24

গাবতলী থেকে কুষ্টিয়াগামী যাত্রী প্রিন্স বলেন, দুই-একটি মোটরসাইকেলে কথা বলেছি ভাড়া ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাচ্ছে বাইকের চালকরা। এতো ভাড়া দিয়ে তো যাওয়া সম্ভব না।

এদিকে ডি লিংক, ঠিকানাসহ একাধিক কোম্পানির লোকাল বাসে যাত্রীদের পাটুরিয়া, চন্দ্রা পর্যন্ত চলে যেতে দেখা যায়।

মোটরসাইকেল চালক এনামুল বলেন, পেটের দায়ে বের হতে হয়েছে। ঘাটে জনপ্রতি ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা ভাড়া চাচ্ছি। অন্যদিকে জেলার বাইরে কুষ্টিয়ায় ৪ হাজার, বগুড়া, যশোরে আরও বেশি ভাড়া চাওয়া হচ্ছে। তবে বেশিভাগ মানুষ বেশি ভাড়া শুনে অন্য জেলায় যেতে চাচ্ছেন না।

jagonews24

এদিকে, যাত্রী নিয়ন্ত্রণ ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় বিজিবির পর গতকাল শিমুলিয়া ঘাটে মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত আনসার। অতিরিক্ত মানুষের চাপে গতকাল শিমুলিয়া ও পাটুরিয়া ঘাট থেকে কিছুক্ষণ পরপরই ফেরি ছেড়ে যেতে দেখা যায়।

আমানত উদ্দিন নামে এক ওয়েল্ডিং মিস্ত্রি বলেন, কষ্ট করে বাসায় যাচ্ছি। বাড়ি চলে যেতে পারলেও অনেক শান্তি। ঈদের দিন বাড়িতে থাকলে সবার সঙ্গে ঈদ করা হবে, ঢাকায় আমাকে কে খাওয়াবে? এটা সবাই বোঝে না।

আমিন বাজার মোড়ে ব্যক্তিগত গাড়িতে করে বিভিন্ন জেলার যাত্রীদের যেতে দেখা যায়। সিরাজগঞ্জ রোড পর্যন্ত যাত্রীদের কাছ থেকে ১৫০০-১৮০০ টাকা, বগুড়ায় ২০০০-২৫০০ হাজার টাকা ভাড়া চাওয়া হচ্ছে।

jagonews24

গাড়িচালক মিরাজ আলম বলেন, বিভিন্ন রুটে প্রশাসনকে ‘ম্যানেজ’ করে গাড়ি চালাতে হয়। বগুড়ায় ৫ জন নিলে ১০ হাজার টাকা আসে। তবে মামলা খেলে পুরোটাই লস।

এদিকে, পুলিশের নাকের ডগায় এসব পরিবহন চললেও কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ট্রাফিক পুলিশ সদস্য সজিব আহমেদ বলেন, ভাড়ায়চালিত এসব পরিবহন আটকাতে পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। তবে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে গন্তব্যের উদ্দেশে ছুটছে মানুষ।

jagonews24

এদিকে বাসের আশায় গাবতলী, আমিনবাজারে যাত্রীদের অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। যাত্রী নিয়ে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে ছুটছে বাসগুলো। মালেক উদ্দিন নামে এক দিনমজুর বলেন, বগুড়া যাব ১৬০০ টাকা বলছে একজন। বাসের জন্য দাড়িয়ে আছি ১ ঘণ্টা। আরও ১ ঘন্টা পরে আমিন বাজার থেকে বাস ছাড়বে বলে শুনেছি।

অনেক যাত্রীই ব্যাগ-বস্তা নিয়ে বাসের জন্য ৫ থেকে ৬ কিলোমিটার হেঁটে আমিন বাজার এসেছেন। অনেকেই পাটুরিয়া ঘাট পর্যন্ত হেঁটে ফেরি ধরবেন বলে মনস্থির করেছেন। ফেরি পার হয়ে বাসে উঠবেন বলে জানান তারা।

আপনার মতামত লিখুন :