অর্থনৈতিক মন্দার ঈদ শাহাদাৎ হোসেন ভূঁইয়া

0
152
একদিকে মহামারি করোনা ভাইরাসে বিপর্যস্ত বিশ^। সেই সাথে সাধারন মানুষের জীবনযাত্রায় চলছে অর্থনৈতিক মন্দা। বেশিরভাগ মানুষের আয় রোজগারে ভাটা পড়েছে। যাদের কাছে গচ্ছিত অর্থ রয়েছে তারাই স্বানন্দে তাদের মনের মতো করে চলতে পারছে। প্রায় মানুষের মুখে শোনা যায় যারা সরকারি চাকুরিজীবি তারাই আরামে আছেন। প্রিয়জনের চাহিদা অনুযায়ী অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন করতে না পারায় খেটে খাওয়া মানুষগুলো হিংস্র হয়ে উঠছে।
রাত পেরোলেই ঈদ। সড়কে মহাসড়কে রেলপথে নদীপথে প্রতিটি স্থানে মানুষের ঢল। দূরপাল্লার যানবাহন বন্ধ থাকায় কেউ পায়ে হেটে চলছেন। কেউ অটোরিক্সায়, কেউ সিএনজিতে চড়েই পাড়ি দিচ্ছেন বিশাল পথ। কোথাও বাস পাচ্ছেন কোথাও পাচ্ছেন না। ভাড়ায় চালিত হাইয়েস গাড়িগুলো এবারের লকডাউনে বেশ ভালো বানিজ্য করেছে। সড়কে গনপরিবহন না থাকলেও সাধারন মানুষের স্থান পরিবর্তনে কোন সমস্যাই হয় নি। শুধুমাত্র গুনতে হয়েছে বাড়তি তিনগুন পয়সা। এই পয়সার এক ভাগ গাড়ির মালিকের, এক ভাগ ট্রাফিক বিভাগের আর এক ভাগ স্থানীয় পরিবহন সংশ্লিষ্টদের নিতে দেখা গেছে। কোথাও কোথাও র‌্যাব পুলিশ ভ্রাম্যমান আদালতে পরিবহন চাঁদাবাজদের আটক করে আইনগত ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়। তবে ধরা ছোঁয়ার বাইরে থেকে যায় মূলহোতা। গ্রাম থেকে বহু যুবক কাজের সন্ধানে শহরে আসে। অধরা চাঁদাবাজরা তাদের বেতন দেয়ার নামে সড়কে নামায় চাঁদাবাজি করতে। বেতনে চাকুরি করতে এসো তারা মামলার আসামী হন। কারাগারে বন্দি থাকতে হয়। প্রশাসন বিভিন্ন কারনে কারা মূল চাঁদাবাজ তাদের চিহ্নিত করতে পারে না বা চায় না। তবে কিছু চাঁদাবাজ সরাসরি সড়কে নামেন।
এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বিশ্বে করোনা ভাইরাসে মোট আক্রান্ত হয়েছেন ১৫ কোটি ৬০ লাখ ৭৭ হাজার ৭৪৭ জন। এ ভাইরাসে মারা গেছে মোট ৩২ লাখ ৫৬ হাজার ৩৪ জন। বাংলাদেশে মোট আক্রান্ত হয়েছে ৭ লাখ ৬৯ হাজার ১৬০ জন। যা প্রতি দশ লাখে ৪ হাজার ৫৬৮ জন। এ পর্যন্ত মারা গেছেন ১১ হাজার ৭৯৬ জন।
করোনা ভাইরাসে বিশ্বে সবচেয়ে বেশি অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। গত ১১ বছরে যুক্তরাষ্ট্র দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় মন্দায় পড়েছে। দেশটির অর্থনীতি ব্যাপক সংকুচিত হয়েছে। রিসার্চের তথ্যানুযায়ী গত বছরের ফেব্রুয়ারী মাস থেকে দেশটিতে মন্দাভাব শুরু হয়। আমরা জানি একটি দেশের বা সমাজের পন্য ও পরিসেবার উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরন ও বাজারজাতকরন যখন বৃদ্ধি পায় তখন সেই দেশের অর্থনীতি চাঙ্গা হয়। যখন পন্য ও পরিসেবার উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরন ও বাজারজাতকরন কমে যায় তখন অর্থনীতিতে মন্দা নেমে আসে। অর্থনৈতিক মন্দা একটি দেশের দেশজ উৎপাদন (জিডিপি), শিল্প উৎপাদন, চাকরির বাজারে বড় প্রভাব ফেলে। বিশ্বে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দেশে মন্দা পরিলক্ষিত হয়েছে। বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দারও একটা নিজস্ব ইতিহাস রয়েছে।
এরমধ্যে অন্যতম হলো ১৭৭২ সালে লন্ডনের ঋণসংকট। যা পরবর্তীতে পুরো ইউরোপে ছড়িয়ে পড়ে। ১৯২৯-৩৯ সালে ‘কালো মঙ্গলবার’ নামে যুক্তরাষ্ট্রের পুঁজিবাজারে মন্দা নেমে আসে। ১৯৭৩ সালে আরব-ইসরাইল যুদ্ধে জ্বালানী তেলের দাম পড়ে যাওয়ায় মন্দা নামে। ১৯৯৭ সালে থাইল্যান্ড থেকে শুরু হয়ে এশিয়ান অর্থনীতিতে মন্দা নামে। ২০০৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের গৃহায়ন খাতে মন্দা দেখা গেছে।
আসলকথা, মানুষ আগে নাড়ীর টানে বা ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে বাড়ি ফিরতো। তবে এবারই প্রথম দেখা গেছে পকেটে পয়সা না থাকার কারনে মানুষ বাড়ি ফিরছে। বেশিরভাগ মানুষের হাতে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকার কারনে বিবাদে জাড়িয়ে পড়ছে। অর্থের জন্য অনেকেই হয়ে পড়ছে পশুর চেয়েও হিংস্র। তবে যাদের কাছে অপরিসীম বৈধ ও অবৈধ অর্থ রয়েছে তারাই এই অসমতার মূল কারন।
লেখক:
সম্পাদক, বাংলা সংবাদ.নেট
সভাপতি, সমাজ গড়ি
প্রতিষ্ঠাতা, আইপি মিডিয়া এসোসিয়েশন
আপনার মতামত লিখুন :