নারায়ণগঞ্জে ছাঁটাইকে কেন্দ্র করে পোশাক শ্রমিকদের ভাঙচুর, আহত ১০

0
81

নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় ছাটাইকৃত ১২ জন পোশাক শ্রমিককে পুনর্বহলসহ ১৭ দফা দাবিতে কারখানার ভেতরে ভাঙচুর চালিয়েছেন বিক্ষুদ্ধ শ্রমিকরা। বৃহস্পতিবার (২০ মে) উপজেলার লাঙ্গলবন্দ কামতাল এলাকায় অবস্থিত টোটাল ফ্যাশন গার্মেন্টসে এ ঘটনা ঘটে।

jagonews24

শ্রমিক অসন্তোষের সংবাদ পেয়ে বন্দর উপজেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা শুক্লা সরকার, নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ বিল্লাল হোসেন ও বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দিপক চন্দ্র সাহা ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

এদিকে উত্তেজিত শ্রমিকদের হামলায় পোশাক কারখানার ব্যবস্থাপক কবিরুল আহম্মেদ (৪০), উৎপাদন ব্যবস্থাপক (পিএম) নুসরাত ওরফে সিমু (৪৩), জিএম জাহের (২৮), সিকিউরিটি ইনচার্জ নাহিদ ও সুপারভাইজার জাহিদসহ (৩০) কমপক্ষে ১০ জন আহত হন। গুরুতর আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়।

jagonews24

কারখানার শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঈদের ছুটির পর বৃহস্পতিবার থেকে টোটাল ফ্যাশন গার্মেন্টস চালু হবে, এ সিদ্ধান্তটি আগের। ওই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শ্রমিকরা ভেতরে প্রবেশ শুরু করেন। কারখানাটিতে স্থানীয় শ্রমিকদের জন্য একটি ও দূরবর্তী এলাকার শ্রমিকদের জন্য বিকল্প আরেকটি গেট রয়েছে। দুই গেটেই পরিচয়পত্র চেক করে প্রবেশ করানো হচ্ছিল। এতে স্থানীয় শ্রমিকদের গেটে দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হয়। ওই সময় নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন সুইং সেকশনের ময়না নামের এক নারী শ্রমিক। নিরাপত্তাকর্মীর ধাক্কায় মাটিতে পড়ে যান তিনি।

নিরাপত্তাকর্মী নারী শ্রমিকের দাঁত ভেঙে দিয়েছেন, এই গুজব ছড়িয়ে পড়ে পুরো গার্মেন্টসে। মুহূর্তের মধ্যে স্থানীয় শ্রমিকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে স্থানীয় ২-৩শ শ্রমিক লোহার রড ও লাঠিসোটা নিয়ে গার্মেন্টসের ভেতরে প্রবেশ করে ভাঙচুর চালায়। স্থানীয় ছাটাইকৃত ১২ শ্রমিককে পুনর্বহালসহ ১৭ দফা দাবিতে কারখানার ভেতরে অবস্থান নেন শ্রমিকরা।

jagonews24

দুপুর ১২টার দিকে টোটাল ফ্যাশন গার্মেন্টসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. হাসিব উদ্দিনের সঙ্গে প্রশাসনের ঊধ্বর্তন কর্মকর্তারা রোববার (২৩ মে) পর্যন্ত গার্মেন্টস বন্ধ ঘোষণা করেন। সোমবার (২৪ মে) আলোচনায় বসে শ্রমিকদের দাবি মেনে নেয়ার আশ্বাসে শ্রমিকরা অবরোধ তুলে নেন।

নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (খ-অঞ্চল) শেখ বিল্লাহ জানান, স্থানীয় ১২ জন শ্রমিককে বিধি মোতাবেক ছাঁটাই করা হয়। এতে শ্রমিকরা একজোট হয়ে ১৭ দফা দাবি উল্লেখ করে জেলা পুলিশ সুপারসহ বিভিন্ন দফতরে একটি স্মরকলিপি দেন। শ্রমিকরা পূর্ব পরিকল্পিত ঘটনা হিসেবে এই ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে তিনি জানান।

আপনার মতামত লিখুন :