থানায় গেলে আগে টাকা, পরে কথা : সংসদে ফরাজী

0
69

প্রশাসনের সর্বত্র ঘুষ-দুর্নীতিতে ছেয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য (এমপি) রুস্তম আলী ফরাজী। তিনি বলেন, ‘সরকারি দফতরে ঘুষ ছাড়া কোনো কাজই হয় না। ভূমি, পুলিশ, বন থেকে শুরু করে প্রতিটি দফতরে কাজ করতে গেলে ঘুষ দিতে হয়। ঘুষ ছাড়া থানায় মামলাও করা যায় না। আগে টাকা তারপর কথা।’ ঘুষ ছাড়া যিনি কাজ করতে পারেন তাকে ‘ভাগ্যবান’ বলে অভিহিত করেন ফরাজী।

সোমবার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

জাতীয় সংসদের এই বিরোধীদলীয় সদস্য বলেন, ‘কানাডার বেগমপাড়ায় আমলাদেরই বেশি সম্পদ/বাড়ি হয়েছে। কিন্তু কিছু নষ্ট রাজনীতিবিদের কারণে এর সব বদনাম রাজনীতিবিদদেরই শুনতে হচ্ছে।’

স্বাস্থ্যখাতের কেনাকাটার প্রসঙ্গ টেনে জাতীয় পার্টির এই এমপি বলেন, ‘সার্জিক্যাল মাস্কের দাম কোনোটি চার টাকা, কোনোটির দাম একটু বেশি। কিন্তু মন্ত্রণালয় এগুলো কিনেছে সাড়ে তিনশ থেকে সাড়ে চারশ টাকা করে। প্রতিটি মাস্ক থেকে সত্তর থেকে আশিগুণ টাকা লুটপাট হয়েছে। তারা আইসোলেশন, কোয়ারেন্টাইন বোঝে না। এই করোনার সময় যদি কেনাকাটায় আকাশচুম্বী দুর্নীতি করে তাহলে দেশ কী করে এগোবে? বঙ্গবন্ধুর আদর্শ কী করে বাস্তবায়ন হবে? চিৎকার দিয়ে আকাশে-বাতাসে বক্তৃতা দিয়ে ৭ মার্চের ভাষণ বাজিয়ে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়ন করা যাবে না। তার ধ্যান-ধারণা-চিন্তার বিষয়টি মনে করতে হবে।’

ফরাজীর অভিযোগ, ‘দেশ এগিয়ে যাচ্ছে ঠিকই। তবে অন্যায়-অত্যাচার দুর্নীতি বন্ধ করা গেলে আরও অনেক দূর এগিয়ে যেত। এমন কোনো মন্ত্রণালয়, বিভাগ বা ক্ষেত্র নেই যেখানে ঘুষ ছাড়া কেউ কোনো কাজ করাতে পারেন। কেউ পারলে তিনি ভাগ্যবান। ভূমি অফিসে গেলে এসিল্যান্ডকে ঘুষ দেয়া লাগবে। আরেক জায়গায় গেলে তহশিলদারকে ঘুষ দেয়া লাগবে। একটু বড় কাজ হলে ইউএনওকে টাকা দেয়া লাগবে। আরও বড় হলে ডিসি সাহেবের টাকা ছাড়া হবে না। থানায় তো দারোগা বাবুরা। আপনে মার খাবেন। আপনার লোক আহত হবে, নিহত হবে। তারপরও এফআইআর করতে গেলে আগে টাকা তারপর কথা। এটা কেমন ব্যাপার। ব্রিটিশ আমলেও সবাই ঘুষ খেত না। পাকিস্তান আমলে সবাই খেত না। এখন একেবারে প্রত্যেকেই। ওখান (থানা) থেকে শুরু করে সার্কেল এএসপি, এডিশনাল এসপি, এসপি। কতদূর ওপরে আছে জানি না। এর ওপরে বললে লাভ কী?’

মন্ত্রীদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘আজকে যারা মন্ত্রী আছেন তাদের দায়বদ্ধতা কী? সবাই গিয়ে হাত তোলেন প্রধানমন্ত্রীর কাছে। প্রধানমন্ত্রী কি মাস্ক কিনবেন? তিনি কি ভূমি অফিসের তহশিলদারের ঘুষ ঠেকাবেন? তিনি কী ওসি-এসপির ঘুষ ফেরাবেন? অনেক ভালো মন্ত্রী এখানে রয়েছেন। তাদের সালাম করি। তাদের লাইফস্টাইল শুনলে ভালো লাগে। কিন্তু যারা চালাতে পারেন না। হয়তো নিজেরা দুর্নীতি করেন অথবা দুর্নীতির কাছে তারা আত্মসমর্পণ করেন।’

আমলাদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘আমলারা দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। এখনে বেগমপাড়া নিয়ে বক্তৃতা হয়েছে। এটা যুক্তরাষ্ট্রে আছে। কানাডায় বেশি। কেউ বলেন এটা কয়েক হাজার। আর একটা সমীক্ষায় এসেছে কয়েকশ। একজন বলেছেন এক হাজারের ওপরে বেগমপাড়া রয়েছে কানাডায়। কারা করেছেন? তারা কি সব এমপি? না। ম্যাক্সিমাম সরকারি কর্মকর্তা। কিছু ব্যবসায়ী। কিছু আমাদের নষ্ট রাজনীতিবিদ।’

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘পাচার হওয়া টাকা ফেরত আনা না গেলে দেশের অর্থনীতি সুন্দর করা যাবে না। ঘুষ-দুর্নীতি বন্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে হবে। অনেক দয়া দেখানো হয়েছে। আর দয়া বা ক্ষমা নয়। দুর্নীতিবাজদের সাথে নত হয়ে কথা বলা লাগলে তার চেয়ে দুঃখের আর কিছু হতে পারে না।’

আপনার মতামত লিখুন :