ইভ্যালির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দুদক-স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি

0
43

ইভ্যালির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) চিঠি পাঠিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। গত রোববার (৪ জুলাই) এ সংক্রান্ত একটি চিঠি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও দুদকে পাঠানো হয়।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডব্লিউটিও সেলের (পরিচালক-৩) মো. খলিলুর রহমান স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে ‘ইভ্যালিডটকম’ নামের একটি ডিজিটাল কমার্সের বিষয়ে তদন্ত করে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত মাসে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দেয়া এক পরিদর্শন প্রতিবেদনে বাংলাদেশ ব্যাংক জানায় যে, ইভ্যালির মোট দায় ৪০৭ কোটি ১৮ লাখ টাকা।

‘গ্রাহকের কাছ থেকে অগ্রিম বাবদ ২১৩ কোটি ৯৪ লাখ টাকা এবং মার্চেন্টদের কাছ থেকে ১৮৯ কোটি ৮৫ লাখ টাকার মালামাল বাকিতে গ্রহণের পর স্বাভাবিক নিয়মে প্রতিষ্ঠানটির কাছে কমপক্ষে ৪০৩ কোটি ৮০ লাখ টাকার চলতি সম্পদ থাকার কথা থাকলেও রয়েছে মাত্র ৬৫ কোটি ১৭ লাখ টাকা, যা দিয়ে মাত্র ১৬ দশমিক ১৪ শতাংশ গ্রাহকদের বকেয়া মেটাতে পারবে প্রতিষ্ঠানটি। বাকি গ্রাহক ও মার্চেন্টদের পাওনা মেটানো ওই প্রতিষ্ঠানের জন্য সম্ভব নয়’ বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

এতে আরও বলা হয়, ‘তদুপরি গ্রাহক ও মার্চেন্টদের কাছ থেকে গ্রহণ করা ৩৩৮ কোটি টাকার হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। এই বিপুল অংকের টাকা আত্মসাৎ কিংবা সরিয়ে ফেলার আশঙ্কা রয়েছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে দুদক চেয়ারম্যানকে বলা হয়েছে।’

গ্রাহকদের কাছ থেকে অগ্রিম নেয়া ২১৪ কোটি টাকার পণ্য ডেলিভারি না দেয়া এবং মার্চেন্টদের ১৯০ কোটি টাকা ফেরত না দেয়ার বিষয়ে তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর ও বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনকেও নির্দেশ দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। চিঠি দেয়া হয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েও।

এ প্রসঙ্গে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, গ্রাহকদের কাছ থেকে অগ্রিম অর্থ নেয়ায় স্বাভাবিকভাবেই মার্চেন্টদের কাছে বকেয়া থাকার কথা নয়। কিন্তু বড় ধরনের আর্থিক অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার কারণে ইভ্যালি এ পরিস্থিতিতে পড়েছে। গ্রাহক ও মার্চেন্টদের স্বার্থরক্ষায় স্বরাষ্ট্র ও দুদককে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বলা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন :