চড়া দামে শুরু হচ্ছে রাজধানীর পশুর হাট

0
95

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে শনিবার থেকে রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনের হাটে পশু কেনাবেচা শুরু হবে। যদিও একদিন আগেই শুক্রবার দুই সিটির অধিকাংশ হাটে পশু কেনাবেচা শুরু হয়েছে। এদিন গরুর দাম ছিল চড়া।

হাটে বেশ কিছু ব্যাপারির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এ বছর রাজধানীর পশুর হাট চড়া দাম নিয়ে শুরু হচ্ছে। কারণ প্রায় সব হাটে পশু আমদানির সংখ্যা গত বছরের থেকে অনেক কম।

যদিও কিছু ব্যাপারি শঙ্কার কথা জানিয়ে বলেছেন, করোনার কারণে ক্রেতা উপস্থিতি সরবরাহের তুলনায়ও কম হলে পরবর্তীতে দাম নেমে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে লোকসানের আশঙ্কা রয়েছে তাদের।

এদিকে গতকাল শুক্রবার হাটে যারা গরু কিনেছেন, তারাও বেশি দামের কথা বলেছেন। সেখানে শিমুল হাসান নামের এক ক্রেতা বলেন, বেচাকেনা পুরোপুরি শুরু হয়নি। কিন্তু এখন যে দাম চাওয়া হচ্ছে, তা গত বছরের তুলনায় বেশি।

এমন অনেক ক্রেতাই হাট শুরুর আগের দিন বাজার যাচাই করতে এসেছিলেন। যারা মনের মতো পশু পেয়েছেন সাধ্যের মধ্যে, তারা কিনেও নিয়েছেন। ৬৬ হাজার টাকায় গরু কিনে এজাজ উদ্দিন বলেন, নামাজ পড়ে হাটে এসেছিলাম। কেনার তেমন ইচ্ছে ছিল না। কিন্তু গরুটা দেখে মনে হলো ভালো। আর কাল থেকে ভিড় শুরু হবে, হাটে আসা ঝামেলা। তাই কিনে নিয়েছি। দাম কেমন জানতে চাইলে তিনি বলেন, বেশি। গত বছর এই গরু আরও ৫-৭ হাজার টাকা কমে কেনা যেত।

আফতাবনগর বাজারে যশোর থেকে ১১টি বড় গরু নিয়ে এসেছেন মোজাম্মেল হোসেন। এর মধ্যে ৮টি গরুর দাম দুই লাখের ওপরে। যেগুলো তিনি গ্রামের বাজার থেকে কিনে এনেছেন। বাজার কেমন হবে জানতে চাইলে এ ব্যাপারি বলেন, এবার দাম চড়া হবে। গ্রাম-গঞ্জে সস্তায় গরু কেনা যায়নি। তিনি বলেন, গত এক বছরে গরুর মাংসের দাম অনেক বেড়েছে। এজন্য খামারেও গরুর দাম বেশি।

ফরিদপুর ভাঙ্গা থেকে ১৬টি গরু নিয়ে এসেছেন ব্যাপারি মজনু মিয়া। এর মধ্যে দুটি গরু বিক্রিও করেছেন তিনি। তিনি বলেন, দাম ভালো পেয়েছি। এমন বাজার থাকলে ব্যাপারিদের লাভ হবে।

আফতাবনগর বাজার ইজারাদারের পক্ষে নিযুক্ত হাট ব্যবস্থাপনায় দায়িত্বশীল কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন বলেন, এখন পর্যন্ত হাটে প্রায় ১১ হাজার গরু এসেছে। শেষ মুহূর্তে গরু আসার পরিমাণ আরও বেড়েছে। শনিবারের আগে প্রায় ১৫ হাজার গরু এ হাটে পৌঁছাবে বলে তাদের ধারণা। তবে এ পরিমাণ গত বছরের তুলনায় বেশ কম।

এদিকে হাট ঘুরে দেখা গেছে, ব্যাপারিরা শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এর মধ্যে কিছু ক্রেতা আসছেন। টুকটাক তাদের সঙ্গে কথা সেরে আবারও গরু প্রস্তুতে মনোযোগ দিচ্ছেন তারা।

অন্যদিকে ইজারাদাররাও শেষ সময় হাট প্রস্তুতের কাজে ব্যস্ত। বিভিন্ন হাটে করোনার স্বাস্থ্য সচেতনতার প্রচারণা শোনা গেছে। তবে বাস্তবে খুব একটা সতর্ক দেখা যায়নি ব্যাপারি ও আগত ক্রেতা-দর্শনার্থীদের। যদিও করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে কোরবানির ঈদ উপলক্ষে অনলাইনের পাশাপাশি যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে পশুর হাট বসানোসহ বেশ কিছু নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। তবে সেসব বিষয়ে উদাসীনতা রয়েছে।

পশুর হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের প্রবেশপথ এবং বহির্গমন পথ পৃথক করার কথা থাকলেও তেমন ব্যবস্থা চোখে পড়েনি। বৃদ্ধ ও শিশুদের পশুর হাটে প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ, মাস্ক ব্যবহার করার প্রবণতাও চোখে পড়েনি।

আপনার মতামত লিখুন :