মহল্লায় ঘুরে চামড়া কিনছে মৌসুমী ব্যবসায়ীরা, বেড়েছে দামও

0
75

ঈদের দিনের তুলনায় দ্বিতীয় দিন রাজধানীর বিভিন্ন মহল্লায় বিক্রি হওয়া চামড়ার দাম কিছুটা বেড়েছে। মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীরা মহল্লায় মহল্লায় ঘুরে এসব চামড়া সংগ্রহ করছেন।

বৃহস্পতিবার (২২ জুলাই) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে চামড়ার মৌসুমি ব্যবসায়ী ও কোরবানিদাতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বুধবারের তুলনায় আজ প্রতিটি চামড়া ৫০ থেকে ১০০ টাকা বেশি দিয়ে কিনছেন ব্যবসায়ীরা।

মহল্লা থেকে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা গতকালের তুলনায় আজ একটু বেশি দামে চামড়া কিনলেও আড়তে দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। গতকালের মতো সরকারের বেঁধে দেয়া দামেই চামড়া কিনছেন আড়ত মালিকরা।

এ বছর রাজধানীর জন্য লবণযুক্ত কাঁচা চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ৪০ থেকে ৪৫ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ৩৩ থেকে ৩৭ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার। এছাড়া প্রতি বর্গফুট খাসির চামড়া ১৫ থেকে ১৭ টাকা, বকরির চামড়া ১২ থেকে ১৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সরকার দাম বেঁধে দিলেও গতকাল ঈদের দিন রাজধানীর বেশির ভাগ এলাকা থেকে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা প্রতি পিস গরুর চামড়া ২০০ থেকে ৩০০ টাকায় কেনেন। আবার কোথাও কোথাও কোরবানিদাতারা চামড়ার ক্রেতা খুঁজে পাননি। ফলে বাধ্য হয়ে তারা বিভিন্ন মাদরাসায় চামড়া দান করে দেন।

গতকাল মহল্লায় চামড়ার ক্রেতা কম দেখা গেলেও আজ বিভিন্ন অঞ্চল ঘুরে ঘুরে মৌসুমি ব্যবসায়ীদের চামড়া সংগ্রহ করতে দেখা গেছে। অবশ্য গতকালের তুলনায় আজ পশু কোরবানির সংখ্যা কম।

বিভিন্ন মহল্লা থেকে মৌসুমি ব্যবসায়ীদের বড় গরুর চামড়া ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা করে সংগ্রহ করতে দেখা যায়। এ ব্যবসায়ীরাই গতকাল বড় গরুর চামড়া ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা করে সংগ্রহ করেন।

যাত্রাবাড়ীর বিভিন্ন মহল্লা থেকে গরুর চামড়া সংগ্রহ করা মো. আব্দুল হালিম বলেন, ‘আমি ফল বিক্রি করি। এখন মহল্লা থেকে কোরবানির চামড়া সংগ্রহ করে বিক্রি করছি। মহল্লা থেকে চামড়া কিনে রায়সাবাজার মোড়ে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করব। আজ প্রতিটি গরুর চামড়া ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা করে কিনেছি।’

তিনি বলেন, ‘গতকাল ২০টি চামড়া কিনেছিলাম। ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা করে কেনা পড়েছিল। তারপরও কিছুটা লস খেয়েছি (লোকসান করা)। আজ দেখি কিছুটা লাভ করতে পারি কি-না।’

গতকাল লোকসান করার পরও আজ বেশি দামে চামড়া কেনার কারণ কী- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ফোন দিয়েছিলাম, আজ বাজার ভালো। দেখি লস কাভার করতে পারি কি-না। তাই আজকেও মহল্লায় মহল্লায় ঘুরে চামড়া কিনছি।

ধোলাইপাড় এলাকা থেকে চামড়া সংগ্রহ করা নূর মোহাম্মদ বলেন, ‘গতকাল যেসব চামড়া কিনেছিলাম, তা ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা করে বিক্রি করেছি। আজ মহল্লায় ঘুরে ঘুরে বড় গরুর চামড়া সংগ্রহ করছি। ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা করে এসব চামড়া কিনছি। ছোট গরুর চামড়া কিনছি না। কারণ ছোট চামড়ার চাহিদা নেই।’

তিনি বলেন, ‘ঈদের দিন যে চামড়া কিনেছিলাম, সেগুলো বিক্রি করেছি। আজ কী হবে বলতে পারছি না। লোকসান হতে পারে, এমন শঙ্কাও আছে। তারপরও কিনছি, দেখি কী হয়!’

রামপুরা এলাকা থেকে চামড়া সংগ্রহ করা মৌসুমি ব্যবসায়ী জহির বলেন, ‘আমি ভ্যান চালাই। গত বছর কোরবানির সময় মহল্লা থেকে চামড়া কিনেছিলাম। তখন কিছুটা লোকসান হয়েছিল। এ বছর ঝুঁকি নিয়ে আবার চামড়া কিনেছি। গতকাল কিছু লাভ করতে পেরেছি।’

তিনি বলেন, ‘গত বছরের তুলনায় এবার চামড়ার দাম একটু বেশি পাওয়া যাচ্ছে। তাই আজও মহল্লায় মহল্লায় ঘুরে চামড়া সংগ্রহ করছি। গতকাল বড় গরুর চামড়া ৩০০ টাকা করে কিনেছিলাম। আজ ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা করে কিনেছি। ১৫ পিস চামড়া কিনতে পেরেছি। আর ৪-৫টা পেলেই আড়তে নিয়ে যাব। ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা করে বিক্রি করতে পারলে কিছুটা লাভ হবে।’

বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আফতাব খান বলেন, ‘সরকার নির্ধারিত দামেই আমরা চামড়া সংগ্রহ করছি। আমাদের এখানে কোনো সংকট বা সমস্যা নেই। চামড়ার মান ভালো থাকলে যারাই চামড়া নিয়ে আসবেন, তাদের কাছ থেকে আমরা ন্যায্য দাম দিয়ে কিনে নেব।’

আপনার মতামত লিখুন :