মরহুম আব্দুল আলী ফকিরের ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে পুস্পস্তবক অর্পণ ও দোয়া

0
183

বিনম্র শ্রদ্ধায় শোক ও ভালোবাসায় পালিত হয়েছে সমাজসংস্কারক ও মানুষের সেবায় নিবেদিত প্রাণ আব্দুল আলী ফকিরের ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী। মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর সমাধিতে পুস্পস্তবক অর্পণ করা হয়।

প্রতি বছরের ন্যায় এবারও ২৫ জুলাই রবিবার বিকেলে প্রাচ্যের ডান্ডি খ্যাত নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পাঠানটুলী পৌর কবরস্থানে মরহুম আব্দুল আলী ফকিরের পরিবারের সদস্য ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানবিক গুণাবলীর মানুষ গুলো গুণী মানুষটির জন্য মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন।

মরহুম আব্দুল আলী ফকির স্মৃতি সংসদ এর প্রধান সমন্বয়ক ও গুণধর নাতী গোলাম মোস্তফা সাচ্ কবরস্থানে সমাহিত মরহুমের প্রতিকৃতিতে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ নিয়ে পুস্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে সম্মানীত সমাজসেবক আব্দুল আলী ফকির কে শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ করেন।

এ সময় তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনায় আরো উপস্থিত ছিলেন, মরহুম আব্দুল আলী ফকিরের ছেলে আব্দুল মোতালেব, এসি আই শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি মঈন উদ্দিন চিশতী, বাংলাদেশ যুব মৈত্রীর জেলা যুগ্ম আহ্বায়ক মাঈনউদ্দিন বারী, মরহুম আব্দুল আলী স্মৃতি সংসদের সমন্বয়ক বাহার উদ্দিন, আব্দুর রশিদ, আবদুল জব্বার, গোলাম মর্তুজা আকাশ, পাবেল ও আয়াত উর রশিদ প্রমূখ।

পুস্পস্তবক অর্পণের পর বাদ আসর আইলপাড়া জামে মসজিদ, নতুন আইলপাড়া জামে মসজিদ এবং পাঠানটুলী গোরস্থান জামে মসজিদে মরহুমের আত্মার শান্তি কামনা করে ও করোনা মুক্ত বিশ্বের জন্য বিশেষ দোয়া এবং মোনাজাত করা হয়। একই সাথে সকলের জন্য দোয়া কামনা করেছেন তার পরিবারের সদস্যরাও।

মরহুম আব্দুল আলী ফকির স্মৃতি সংসদ এর প্রধান সমন্বয়ক গোলাম মোস্তফা সাচ্ বলেন, বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে যে দুর্যোগের সৃষ্টি হয়েছে তা থেকে রক্ষা পেতে হলে আমাদের দৃঢ় ও সৎ হতে হবে। এই পরিস্থিতিতে আমাদের উচিৎ মরহুম আব্দুল আলী ফকিরের জীবন চরিত্র ও আদর্শ স্মরণ করা। এই দুর্যোগ থেকে অব্যাহতি পেতে আমাদের ত্যাগী হতে হবে। একজন স্বেচ্ছাসেবক হয়ে সমাজের জন্য নিবেদিত ভাবে কাজ করতে হবে। মানবিক মূল্যবোধ এখন জরুরি হয়ে পড়েছে। আমাদের এলাকার সার্বিক উন্নয়নে মরহুম আব্দুল আলী ফকিরের ভূমিকা অপরিসীম। আল্লাহ সবাইকে সঠিক বুঝদান করুন।

এদিকে সমাজের বিশিষ্টজনদের অভিমত এলাকার সমাজ উন্নয়নে স্বীকৃতিস্বরূপ পাঠানটুলী আইলপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হইতে চিটাগাংয়ের বাড়ি হয়ে পশ্চিম আইলপাড়ার শেষ প্রান্ত এবং এনায়েতনগর সীমানার শেষ প্রান্তে আব্দুল কাদির এর বাড়ির সীমানা পর্যন্ত সম্মুখ রাস্তাটি আব্দুল আলী ফকির নামে নামকরণের জন্য নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সুযোগ্য মেয়র মহোদয় ও স্থানীয় ৮ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলরের প্রতি জোর দাবি জানান।

এলাকার অভিজ্ঞ মহল মনে করেন, একজন প্রকৃত গুণীজনকে যদি রাস্তার নামকরণের মধ্যে দিয়ে স্বীকৃতিস্বরূপ সম্মান প্রদর্শন করা হয়, তাহলে সমাজে আরো গুণীজন সৃষ্টি হবে, কলুষ মুক্ত সমাজ গঠনের মধ্য দিয়ে দেশ এগিয়ে যাবে। উল্লেখ্য যে, বিগত ২০১০ সালের ২৫ জুলাই না ফেরার দেশে চলে গেছেন আব্দুল আলী ফকির। বিগত ১৯১৬ সালের ২ ফেব্রুয়ারি আলোকিত এই মানুষটি পৃথিবীতে আসেন। পিতা মাতার আদর্শে বাস্তবতার নিরিখে ছোট বেলা থেকেই সহজ ও সরলতায় মানুষের ভালোবাসা পেয়েছেন। মানুষের বিপদ-আপদে সব সময় এগিয়ে গিয়েছেন আব্দুল আলী ফকির। মানুষের ভালোবাসা ও হৃদয় জয় করে সমাজকর্মী হিসেবে যথেষ্ট কাজ করেছেন তাঁর নিজ এলাকায় ও পার্শ্ববর্তী অন্যান্য এলাকাতে। তরুন বয়সেই মানুষের আস্থার প্রতিক হিসেবে ছিলেন আব্দুল আলী ফকির।

যদিও তিনি সামাজিক কাজে অনেক বাঁধার সম্মুখীন হয়েছেন, তারপরও থেমে থাকেন-নি তিনি। পরিবার পরিজনকে যেভাবে তিনি ভালোবাসতেন, একইভাবে সাধারণ মানুষকেও তিনি ভালবাসার বন্ধনে আবদ্ধ রাখতেন। এলাকায় পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও রাস্তার কাজসহ বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নে আব্দুল আলী ফকির এর ভূমিকা ছিল অপরিসীম। একনিষ্ঠ সমাজসেবক মানবদরদী আবদুল আলী ফকির শুধু একটি নামই নয়- একটি ইতিহাস ও ঐতিহ্য। তার পরিশ্রমের ফসল নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ৮নং ওয়ার্ডের নতুন আইলপাড়া এলাকার রাস্তা, পানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস পেয়ে আজ জনসাধারণ সুফল ভোগ করছে। এই কীর্তিমান গুণী ব্যাক্তিটি কেবল সমাজসেবকই ছিলেন না, তিনি মানুষকে আলোকিত করার লক্ষ্যে নিরবে নিভৃতে যথেষ্ট কাজ করে গেছেন। আজ তিনি মানুষের মাঝে নেই কিন্তু তার অবদান তাকে জাগিয়ে তুলছে।

তাইতো তারই স্মরণে গড়ে উঠেছে আব্দুল আলী ফকির স্মৃতি সংসদ। সংগঠনটির মূল শ্লোগান হচ্ছে ” সমাজ প্রেমের মৃত্যু নাই – সমাজ প্রেমিকের মৃত্যু নাই “। প্রতিষ্ঠাতা প্রধান গোলাম মোস্তফা সাচ্ বলেন, আব্দুল আলী ফকির স্বশরীরে নেই কিন্তু তাঁর কর্মই তাকে বাঁচিয়ে রেখেছে। তিনি আলোকজ্জ্বল হয়ে থাকবেন সকলের মাঝে অনন্তকাল।

আপনার মতামত লিখুন :