মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন ‘এমভি ইকরাম’ হবে জাদুঘর

0
65

মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন ‘এমভি ইকরাম’ জাদুঘর হিসেবে সংরক্ষণ করা হবে। সেজন্য নারায়ণগঞ্জের কর্ণফুলী ডকইয়ার্ডে থাকা ‘এমভি ইকরাম’ ধ্বংসাবশেষ পরিদর্শন করেছেন মন্ত্রীরা। বুধবার (৪ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টায় তারা এ স্মৃতিচিহ্নটি পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শন শেষে শহরের খানপুরে বিআইডব্লিউটিএ ড্রেজার বেইজে ব্রিফিংয়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, “১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর দখলে যেসব জাহাজ ছিল বীর মুক্তিযোদ্ধারা ‘অপারেশন জ্যাকপট’ এ নেমে একদিনে সব জাহাজ ডুবিয়ে দিয়েছিল। সেই স্মৃতি সংরক্ষণের জন্য ইতোমধ্যে এমভি ইকরাম জাহাজের ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করেছি। এ জাহাজটি আমরা ‘জাদুঘর’ হিসেবে নির্মাণ করতে চাই এবং এমন জায়গায় রাখতে চাই আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম এবং দেশি-বিদেশি পর্যটকরা এসে যেন জানতে পারে। যাতে করে মানুষ আকৃষ্ট হয়।”

তিনি আরও বলেন, ‘নৌপ্রতিমন্ত্রী যে পরামর্শ দিয়েছেন সেটা আমাদের সবার কাছে মনঃপূত হয়েছে, সেটা হলো পরামর্শক কমিটি গঠন করা হবে। সেই কমিটি পরামর্শ দেবে কোন জায়গাটা বেশি উপযোগী হবে, কীভাবে করবে, সংরক্ষণ কোথায় করলে ভালো হবে আমরা সেখানেই স্থান নির্ধারণ করব। আজ চারটি জায়গা পরিদর্শন করেছি। সবগুলোই ভালো জায়গা। এখন পরামর্শক কমিটি ও আর্কিটেকচার ঠিক করবেন কোথায় করলে ভালো হবে।’

এসময় নৌপ্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধা সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও সাবেক নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান, মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. খাজা মিয়া ও বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান কমোডর গোলাম সাদেক উপস্থিত ছিলেন।

নৌপ্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নের জন্য ১২ বছর ধরে নিরসলভাবে কাজ করে যাচ্ছি। তারই একটি অংশ এমভি ইকরাম খুঁজে পেয়েছি। এটা উদ্ধার করা হয়েছে। এটাকে সংরক্ষণ করে আগামী প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা সরকারের দায়িত্ব। সেজন্য আমরা দেখে গেলাম। পরামর্শক কমিটির প্রস্তাবনা অনুযায়ী এখানে এমন একটি মিউজিয়াম করা হবে, যা আগামী ৫০০ বছর পরও মুক্তিযুদ্ধে কথা বলবে, প্রজন্মের কথা বলবে। আমরা আশা করি, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে গর্ব ও অহংকারের কাজ সমাপ্ত হবে।’

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় নৌ সেক্টর পরিচালিত সফলতম গেরিলা অপারেশন ছিল অপারেশন জ্যাকপট। এটি ছিল একটি আত্মঘাতী অপারেশন। এ অপারেশন ১৯৭১ এর ১৫ আগস্ট রাত ১২টার পর অর্থাৎ ১৬ আগস্ট প্রথম প্রহরে চট্টগ্রাম ও মোংলা সমুদ্রবন্দর এবং দেশের অভ্যন্তরে চাঁদপুর ও নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরে একই সময়ে পরিচালিত হয়। সে সময়ে চাঁদপুরের ডাকাতিয়া নদীতে ডুবিয়ে দেয়া হয়েছিল পাক হানাদার বাহিনীর জাহাজ ‘এমভি ইকরাম’।

আপনার মতামত লিখুন :