৭০ ফুট আবর্জনার নিচে সাদিয়া, দায় কার

0
52

চট্টগ্রামে অরক্ষিত নালায় পড়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী সেহেরীন মাহমুদ সাদিয়ার (১৯) মৃত্যুর ঘটনা নগরবাসীর মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বাড়িয়ে দিয়েছে। ৭০ ফুট গভীর থেকে নালায় জমে থাকা আবর্জনা সরিয়ে তাকে উদ্ধার করা হয়।

সোমবার রাতে মামা জাকির হোসেনের সঙ্গে আগ্রাবাদে চশমা কিনতে গিয়েছিলেন। ফুটপাতের পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পা পিছলে নালায় পড়ে যান। তাকে বাঁচাতে মামা জাকির হোসেন নালায় লাফিয়ে পড়েন। তবে স্রোতের কারণে তিনি ভাগ্নিকে খুঁজে পাননি।

মুহূর্তেই সাদিয়া পানিতে তলিয়ে যান। তবে পাঁচ ঘণ্টা পর ঘটনাস্থলের প্রায় ৩০ ফুট দূরে ৭০ ফুট গভীর থেকে নালায় জমে থাকা আবর্জনা সরিয়ে তাকে উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাদিয়ার করুণ মৃত্যু নগরবাসীর হৃদয় স্পর্শ করেছে। আর কেউ এমন একটি মৃত্যুও হোক তা চায় না। একই সঙ্গে তারা কাদের অবহেলায় এ মন দুঃখজনক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটল তা চিহ্নিত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন।

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামস জানান, আমরা শুধু প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করি। তা রক্ষণাবেক্ষণ ও নালার পাশে নিরাপত্তা বেষ্টনী নির্মাণ করার দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের। তবে এখন পর্যন্ত চসিক কোনো জায়গায় নিরাপত্তা বেষ্টনী নির্মাণ করতে পারেনি।

সাদিয়ার মৃত্যুর পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন চসিক মেয়র এম রেজাউল করিম চৌধুরী। তিনি বলেন, এখানে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ চলছে। রাস্তায় গর্ত করা হয়েছে। ফুটপাতের ওপর কাদা জমেছে। বৃষ্টির পর সেই কাদা পিচ্ছিল হয়ে গিয়েছিল। কাদার ওপর পা পড়ার পর পিছলে মেয়েটি নালায় পড়ে গেছে।

এখানে যারা প্রকল্পের কাজ করছে, তাদের সতর্ক হওয়া দরকার ছিল। পানিতে রাস্তা এবং নালা এক হয়ে গেছে। ফুটপাত কেটে খালের দেড় ফুটের মধ্যে নিয়ে আসা হয়েছে। পথচারীরা  বুঝবে কীভাবে? খুঁটি গেড়ে লাল পতাকা টানিয়ে দিলেও তো মানুষ সতর্ক হতে পারত। চউকের  অবহেলা আছে। তারা দায় এড়াতে পারে না। প্রকল্পের প্রকৌশলীরাও এজন্য দায় এড়াতে পারেন না।

মেয়রের এমন বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান, চউক চেয়ারম্যান এম জহিরুল আলম দোভাষ। তিনি বলেন, সিটি করপোরেশনের আর কোনো কাজ নেই। সব কিছুতেই চউকের দোষ দেখতে পায়। তিনি উল্টো এ ঘটনার জন্য দায়ী করেন সিটি করপোরেশনকে।

তিনি বলেন, নালার ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার না করার কারণেই সেখানে যে পানি ছিল তা বুঝতে পারেনি পথচারীরা। নালা ভালোমতো পরিষ্কার থাকলে পানি কতটুকু ছিল তা বোঝা যেত। তখন এমন দুর্ঘটনা ঘটত না। এরপরও তিনি নালায় পড়ে সাদিয়ার মৃত্যুর ঘটনাকে অনাকাঙ্ক্ষিত উল্লেখ করে এর জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।

আপনার মতামত লিখুন :