প্রশাসন-পুলিশ ছাড়া আ’লীগকে মাঠে নামার আহ্বান মোশাররফের

0
29

প্রশাসন ও পুলিশ ছাড়া আওয়ামী লীগকে মাঠে আসার জন্য আহ্বান জানিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী জনগণ ও বিএনপিকে ভয় পাচ্ছেন। এ কারণেই গত নির্বাচনে ৩০ তারিখের ভোট আগের রাতেই করেছিল আওয়ামী লীগ।

বুধবার (১০ নভেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘৯০’র ডাকসু ও সর্বদলীয় ছাত্রঐক্য’ আয়োজিত এক স্মরণসভায় আওয়ামী লীগকে এ আহ্বান জানান তিনি। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের নায়ক শহীদ নূর হোসেনের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এ স্মরণসভার আয়োজন করা হয়।

‘বিএনপির অস্তিত্ব নিয়ে আমি চিন্তিত’— প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে বিএনপির এ নেতা বলেন, আমি বলতে চাই, বিএনপির যদি অস্তিত্ব না থাকলে গত নির্বাচনে ৩০ তারিখের ভোট আগের রাতে ডাকাতি করলেন কার ভয়ে? আপনি এখন বলছেন, বিএনপির অস্তিত্ব সংকটে।

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, আপনি প্রশাসন ও পুলিশ ছাড়া আওয়ামী লীগকে নিয়ে মাঠে আসেন। তখন দেখা যাবে, অস্তিত্ব বিএনপির না কি আওয়ামী লীগের আছে।

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও প্রশাসন যাকে ইচ্ছে তাকে পাস করাবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও জনগণের ভোটের কোনো প্রয়োজন হয় না। সেজন্য এ সরকার জনগণকে পরোয়া করে না।

আজ আমরা একটা সংকটের মধ্যে আছি উল্লেখ করে খন্দকার মোশাররফ বলেন, সংকট হচ্ছে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং আমাদের নেত্রীর মুক্তি একই সূত্রে গাঁথা। কিন্তু বর্তমান সরকারকে ক্ষমতায় রেখে এদেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার সম্ভব নয়। নির্বাচনের কথা বলেন, ২০০৮ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত আমরা দেখেছি এখানে নির্বাচনের কথা বলে লাভ নেই। কারণ শেখ হাসিনার অধীনে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হতে পারে না। দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় দল বিএনপি এ ধরনের নির্বাচনে যাবেও না। তাই নির্বাচন নিয়ে কথা বলে লাভ নেই।

আগামী নির্বাচন নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ভোট হতে হবে উল্লেখ করে বিএনপির এ স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, এটা কিন্তু শেখ হাসিনা কখনও দেবেন না। এটা কেউ বিশ্বাসও করেন না। সুতরাং এ সরকারকে হটানোর জন্য আমাদের আন্দোলনের বিকল্প নেই। তাহলে আন্দোলন কী অবস্থায় আছে? সরকার তো ফ্যাসিবাদী কায়দায় আন্দোলনকে স্তব্ধ করার চেষ্টা করবে। কিন্তু আমাদেরও ঠিক একইভাবে সাহস, ধৈর্য, কমিটমেন্ট নিয়ে অবস্থান নিতে হবে।

‘সেজন্য আমাদের সাহস করে নামতে হবে। কারণ কোনো আন্দোলনে জনগণ প্রথম নামে না। নেতৃত্বকে নামতে হয়। সব আন্দোলনে ছাত্র, যুবক ও শ্রমিক ভ্যানগার্ড হিসেবে তারা সামনে থাকে। তারপর রাজনৈতিক দলগুলো থাকে। এরপর জনগণ নামে। ইতিহাস বলে, জনগণ নামার পর কোনো স্বৈরাচার বা ফ্যাসিস্ট টিকতে পারেনি।’

ডাকসুর সাবেক ভিপি আমানউল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে সভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, নির্বাহী কমিটির সদস্য নাজিম উদ্দিন আলম প্রমুখ বক্তব্য দেন।

আপনার মতামত লিখুন :